ঈদুল ফিতর কত তারিখ ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রশ্ন সকল মুসলিমের মনে ঘুরপাক
খাচ্ছে। কেননা মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আর এই নিয়ে সবার
ব্যাপক আগ্রহ।
আজকের পোস্টে আপনি জানতে পারবেন ঈদুল ফিতর ২০২৬ সালের কত তারিখ হতে পারে সেই
সম্পর্কে তথ্য। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ এবং সেই
সাথে ঈদের প্রস্তুতি, পালনীয় বিষয় ও গুরুত্ব।
ঈদুল ফিতর কত তারিখ ২০২৬ এটা আমাদের সকলের আগ্রহের এবং প্রত্যাশিত একটি দিন।
কেননা পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রতিটি মুসলমানের জীবনে অনাবিল শান্তি ও অবারিত আনন্দ
বয়ে নিয়ে আসে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ
থেকে মুমিন বান্দার জন্য পুরস্কার স্বরূপ খুশির এই দিনটি আসে। তাই ঈদুল ফিতর একটি
তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ঈদুল ফিতর কত তারিখ ২০২৬ সালে হবে তা মূলত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর
করবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর।
বিশ্বব্যাপী সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রমজান মাস শেষ করে শাওয়াল মাসের এক
তারিখে ঈদুল ফিতর পালন করে থাকে। এটিকে রোজার ঈদও বলা হয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম বা
রোজা পালন আমাদেরকে একদিকে যেমন ত্যাগের শিক্ষা দেয় তেমনি অপরদিকে সকলের সাথে
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষাও
আমাদেরকে দেয়। এই কারণে ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এই
তারিখটা জানাও আমাদের জন্য বেশ প্রয়োজন।
রমজানের শেষ দিন সন্ধ্যার সময় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আনন্দই অন্যরকম। এটি
আমাদের সকলের মনে দারুণ এক রোমাঞ্চ এবং উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। ঈদের দিন সকালে নতুন
পোশাক পরে ঈদগাহে যাওয়া, সকলে মিলে একসাথে ঈদের সালাত আদায় করা এবং সালাত শেষ
করে এক অপরের সাথে কোলাকুলি করা এগুলো আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো দৃঢ়
করে।। এই উৎসব ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলকে একত্রিত করে।
২০২৬ সালের রমজান মাসের শুরু এবং সিয়াম সাধনা
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কত তারিখ অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আমাদেরকে
প্রথমে জানতে হবে রমজান মাস কবে থেকে শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের
ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজান মাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনে হয়ে থাকে এবং এর শেষেই আসে আনন্দময় ঈদুল ফিতরের
দিন। তাই ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে হবে তা মূলত নির্ভর করছে রমজান মাস
শুরু হওয়ার ওপর।
ইংরেজি তারিখ
বার
আরবি তারিখ
১
রবিবার
১৩
২
সোমবার
১৪
৩
মঙ্গলবার
১৫
৪
বুধবার
১৬
৫
বৃহস্পতিবার
১৭
৬
শুক্রবার
১৮
৭
শনিবার
১৯
৮
রবিবার
২০
৯
সোমবার
২১
১০
মঙ্গলবার
২২
১১
বুধবার
২৩
১২
বৃহস্পতিবার
২৪
১৩
শুক্রবার
২৫
১৪
শনিবার
২৬
১৫
রবিবার
২৭
১৬
সোমবার
২৮
১৭
মঙ্গলবার
২৯
১৮
বুধবার
৩০
১৯
বৃহস্পতিবার
১ (প্রথম রমজান) (সম্ভাব্য)
২০
শুক্রবার
২
২১
শনিবার
৩
২২
রবিবার
৪
২৩
সোমবার
৫
২৪
মঙ্গলবার
৬
২৫
বুধবার
৭
২৬
বৃহস্পতিবার
৮
২৭
শুক্রবার
৯
২৮
শনিবার
১০
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সম্ভাব্য ১৯ তারিখ রমজানের প্রথম রোজা শুরু হতে পারে
বলে ধারণা করা যায়। রমজান মাস হলো সিয়াম সাধনা এবং সংযমের মাস। মাসজুড়ে রয়েছে
অনেক নফল ইবাদত এবং সেই সাথে পুরস্কার স্বরূপ সওয়াব। পুরো রমজান মাস জুড়ে ইবাদত
বন্দেগি শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ আমাদেরকে ঈদুল ফিতরের বার্তা দেয়। তাই
রমজানের শুরুর তারিখটি সঠিকভাবে জানতে পারাটা আমাদের জন্য জরুরী। এতে করে ঈদের
জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া অনেক বেশি সহজ হয়।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ভূমিকা এবং ঈদের ঘোষণা
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করে থাকে এবং এই কমিটি
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণের
ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে করে থাকে। চাঁদ দেখার সংবাদ
পর্যালোচনা করে ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রদান করে।
তাই ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর কত তারিখ সালে তা নিশ্চিত হতে কমিটির ঘোষণা
আবশ্যক।
পর্যালোচনায় যদি দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায় তাহলে পরেরদিন ঈদুল ফিতর পালিত হয়
নতুবা রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হয়। যেহেতু চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ
পালন করা রাসুল (সা.) এর নির্দেশ তাই চাঁদ দেখা কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই
দায়িত্ব এই পালন করে। আশা করা যায় ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম হবে না এবং কমিটি
সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যটি জনগণের কাছে পৌঁছে দেবে।
বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় আবহাওয়া অফিস এবং
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো আগে থেকেই চাঁদের স্থানাঙ্ক এবং দৃশ্যমান হওয়া নিয়ে
রিপোর্ট প্রদান করে। অনেক সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে চাঁদ দেখা নিয়ে একটা
অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন চাঁদ দেখা কমিটি এই বিজ্ঞানভিত্তিক রিপোর্টগুলোও আমলে
নেয় যাতে করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষেত্রে ভুলের কোনো অবকাশ না থাকে। আর কমিটির
সেই ঘোষণা আমাদের কাছে পৌঁছে দেয় এক আনন্দের বার্তা।
ঈদুল ফিতরের সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব
ঈদুল ফিতর একটি ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক
বন্ধন দৃঢ় করার এক অনন্য মাধ্যম। ঈদের দিনে মানুষ সব রকম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
একে অপরের সাথে হাসিখুশিতে মেতে উঠে। পরিবারের সবাই একসাথে হওয়ায় এবং
দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজনের আগমনের ফলে ঘরগুলো আনন্দ মেলায় পরিণত হয়। ২০২৬
সালের ঈদও আমাদের জীবনে বয়ে নিয়ে আসবে এমন সব স্মৃতি যা আমরা বছরের পর বছর
আনন্দের সাথে মনে রাখব।
ঈদুল ফিতরের দিনটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। এই দিন বড়দের
দোয়া নেওয়া এবং ছোটদের সেলামি দেওয়ার নিয়ম আমাদের সমাজে যুগের পর যুগ আমাদের
মধ্যে চলে আসছে। নতুন জামাকাপড় পরিধান করে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়া
এবং তাদের সাথে কুশল বিনিময় সামাজিক মেলবন্ধনের তৈরি করে। এই উৎসবটি আমাদেরকে
শেখায় কীভাবে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা একটি
সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারি।
ঈদের সময় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে আনন্দ
ভাগাভাগি করা ঈদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের নানা প্রান্তে থাকা মানুষজন ঈদের
ছুটিতে সবাই যখন গ্রামে ফেরে তখন গ্রামীণ জনপদ উৎসব ভরে ওঠে। শহরের ব্যস্ত জীবন
থেকে মুক্তি পেয়ে শিকড়ের টানে সকলের বাড়ি ফেরার আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
সকলের একসাথে মিলিত হওয়ার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে এবং গ্রামীণ জনপদে বিরাজ
করে ঈদ উৎসবের আমেজ।
ঈদ উৎসবের একটি বড় হলো কেনাকাটা যা রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই আমাদের দেশে শুরু
হয়ে যায়। নতুন জামাকাপড় এবং প্রসাধনী কেনার জন্য শপিং মলগুলোতে থাকে মানুষের
উপচে পড়া ভিড় যা এক উৎসবের আমেজ তৈরি করে। পোশাক সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে মানুষ
ট্রেন্ডিং এবং বৈচিত্র
পছন্দ করে। তাই গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের আধুনিক নকশা ও কাপড়ের গুণমান
বজায় রেখে শপিংমলগুলোও পরিকল্পনা মাফিক সবকিছু সাজিয়ে রাখে এবং স্টক পূর্ণ করে
রাখে।
ঈদের সময় বাড়তি ঝামেলা ও বাজার অস্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখে অনেকেই আগেভাগে
কেনাকাটা সেরে ফেলতে পছন্দ করেন। রমজানের শেষের দিকে যেহেতু শপিংমলগুলোতে অনেক
ভিড় হয় তাই স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটার জন্য আগেভাগেই তা সেরে ফেলা ভালো। তবে
বর্তমান অনলাইন শপিং পদ্ধতি অনেক জনপ্রিয় হওয়ায় অনেক মানুষই অনলাইন শপিংমল
গুলো থেকে কেনাকাটা করে থাকে। এটি কেনাকাটাকে যেমন আরো সহজ করে তুলেছে, তেমনি
আমাদের সময় ও শ্রমকে করে তুলেছে আরো সাশ্রয়ী।
কেনাকাটার তালিকায় কেবল নিজের পোশাকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়দের
জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকে বিভিন্ন উপহার। ছোটদের জন্য রঙিন পোশাক এবং বড়দের জন্য
রুচিশীল পাঞ্জাবি বা শাড়ি ঈদ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ঈদ বাজারে
নতুন কী কী কালেকশন আসতে পারে তা দেখার জন্য ফ্যাশন সচেতন মানুষরা সব সময়ই
মুখিয়ে থাকেন। আপনার নিজের এবং প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের পোশাকটি যেন সঠিক সময়ে
সংগ্রহ করতে পারেন সেজন্য ২০২৬ সালের ঈদের সম্ভাব্য তারিখটি আগে থেকেই
ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখুন।
ঈদুল ফিতরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টান্ন
বাঙালি যেহেতু ভোজন রসিক মানুষ তাই ঈদকে ঘিরে থাকে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের
আয়োজন। ঈদের দিন সকালে সেমাই বা পায়েস দিয়ে মিষ্টিমুখ করা আমাদের দেশের একটি
প্রাচীন সংস্কৃতি। এই দিন প্রতিটি ঘরে ঘরে পোলাও, মাংস, ফিরনি, কোরমা সহ নানা
রকম মুখরোচক আইটেম রান্না করা হয়। খাবার ভাগাভাগির পাশাপাশি পরিবারের সকলের
মধ্যে আনন্দও ভাগাভাগি হয়। তাই ঈদুল ফিতরের তারিখ আগে থেকে জেনে নিয়ে আপনিও
ঠিক করতে পারেন লাঞ্চে বা ডিনারের মেনু।
বন্ধুবান্ধব ও মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য চটপটি, ফুচকার মতোমুখরোচক খাবারগুলো
ঈদের আনন্দকে আরো জমিয়ে তোলে। আত্মীয়-স্বজনদের পাশাপাশি পাড়ার প্রতিবেশীদের
মধ্যেও আনন্দ ভাগাভাগি হয়ে থাকে। প্রতিবেশীদের বাড়িতে খাবার পাঠানো এবং একে
অপরের সাথে খাবার বিনিময় পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। খাবারের এই আয়োজন
ছোট হোক কিংবা বড় তার মধ্যে যে ভালোবাসা মিশে থাকে তা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে যায়
এবং ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তোলে।
তবে রাখা জরুরি অতিভোজন যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে। কেননা দীর্ঘ এক মাস রোজা
করার পর আমাদের পাকস্থলী বেশ সংবেদনশীল থাকে। তাই সুস্থ থাকার জন্য পরিমিত
খাবার গ্রহণ এবং পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। এ
কারণে খাবার মেনুতে সব সময় স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার রাখতে হবে। মিষ্টি
খাবারের পাশাপাশি ফলের রস এবং স্বাস্থ্যকর সালাদ মেনুতে রাখলে তা হজম
প্রক্রিয়া ঠিক রাখবে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
ঈদের নামাজ আদায় ও জামাতের সময়সূচি
ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো ঈদের নামাজ। ঈদের দিন দুই রাকাত ওয়াজিব
নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতে হয়। শহরের বড় বড় ঈদগাহ মাঠ থেকে শুরু করে গ্রামের
ঈদগাহ ময়দান, এমনকি মসজিদেও ঈদের জামাত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করা হয়।
ঈদের নামাজের সময়সূচী বিভিন্ন ঈদ্গাহ ও মসজিদ ভেদে সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ৯টার
মধ্যে বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান জামাত
অনুষ্ঠিত হয় যেখানে রাষ্ট্রপতিসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাধারণ মানুষের
সাথে একত্রে নামাজ পড়েন।
ঈদের দিন নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা, সুগন্ধি মাখা এবং মিষ্টি কিছু খাওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অন্যতম একটি সুন্নাত। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মুসল্লিগণ
তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহের দিকে যাত্রা করেন। সবাই কাতার বদ্ধ হয়ে নামাজ
আদায় করেন। নামাজ শেষে সকলে খুতবা শোনেন এবং খুতবার পর দোয়া ও মোনাজাতের
মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করেন। মোনাজাত শেষে একে অপরের
সাথে কোলাকুলি করে সকলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ঈদুল ফিতরের দিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ফিতরা আদায় করা। 'ফিতরা'
শব্দটি ঈদুল ফিতরের নামের সাথেই যুক্ত। ফিতরা মূলত দান বা সদকার মাধ্যমে
অভাবীদের সাহায্য করা। রমজানে রোজা পালনের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য ফিতরা
আদায় করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। গরিব মানুষেরা যেন ঈদের
আনন্দ উপভোগ করতে পারে তাই ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম। ফিতরার
পাশাপাশি অনেকে এই মাসে যাকাতও আদায় করে থাকেন।
২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরে ফিতরার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণ কত হবে তা ইসলামিক
ফাউন্ডেশন রমজানের মাঝামাঝি সময়ে জানিয়ে দেবে। ফিতরা সাধারণত গম, আটা, খেজুর বা
কিসমিস ইত্যাদির বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় যা প্রতি বছর পরিবর্তিত
হতে পারে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী প্রত্যেকের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট
পরিমাণ অর্থ গরিবদের মাঝে বিতরণ করতে হয়। এই কারণে ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতর কত
তারিখ অনুষ্ঠিত হবে তা জানার পাশাপাশি ফিতরা আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়াও আমাদের
ধর্মীয় দায়িত্ব।
ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি
ঈদ মানে আনন্দ। তবে ঈদের প্রকৃত আনন্দ কেবল নিজের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়
বরং তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। সমাজের সকল পেশার মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের
প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য করা। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
২০২৬ সালের ঈদে আমরা যদি প্রত্যেকে একটি করেও ভালো কাজ করার শপথ নিই তবে আমাদের
সমাজ আরো অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে।
শিশুদেরকে শেখানো কীভাবে অন্যের বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে ত্যাগের
মাধ্যমে সুখ অর্জন করা যায়। চারপাশের অসুস্থ আত্মীয় বা প্রতিবেশীর খবর নেওয়া।
সম্মিলিতভাবে রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করা বা শীতবস্ত্র (যদি প্রয়োজন হয়) বিতরণ
করার মতো উদ্যোগ নিতে পারি। ২০২৬ সালের ঈদ-উল-ফিতরে আমরা যেন সবাই মিলে এক
সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করতে পারি।
ঈদুল ফিতর কত তারিখ ২০২৬ এটা জানাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা
ঈদুল ফিতরের সব আয়োজন এবং প্রস্তুতি এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই। ঈদুল ফিতর
অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি যদিও চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল তারপরও সম্ভাব্য
তারিখটি জানা থাকলে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ হয়।
উপরোক্ত ব্লগ পোস্টে এ দিনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ এবং এই দিনের
করণীয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
পরিশেষে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আমাদের সবার জীবনে যেন বয়ে নিয়ে আসে অফুরন্ত
সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা। ঈদের এই পবিত্র আমেজ যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে
ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। ধর্মীয় নিয়ম ও বিধি-বিধান মেনে, সব বিভেদ ভুলে একসাথে ঈদ
উদযাপন করতে পারি। আমাদের সবার জীবন আরো আনন্দময় ও আলোক উজ্জ্বল হয়ে উঠুক।
ইনফো নেস্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url